.

মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০ | ০২-৮৩১৭২০৯ |

করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুত ২শ’ কর্মকর্তা

করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুত ২শ’ কর্মকর্তা
সরকার

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরকারের মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

নতুন এ যুদ্ধে শামিল হয়ে এখন পর্যন্ত একজন ডিসিসহ প্রশাসন ক্যাডারের ২৭ কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন নারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছেন।

রা মূলত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ত্রাণ বিতরণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, দরিদ্রদের তালিকা তৈরি, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনসহ অন্যান্য কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন।

মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আরও প্রায় একশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের ২০০ কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তালিকায় বিসিএস ২২ ব্যাচ থেকে ৩৭ ব্যাচের একজন ডিসিসহ ২৭ ক্যাডার কর্মকর্তা আক্রান্ত

কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। এরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনে কর্মরত আছেন। মাঠ প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হলে তার স্থলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই তালিকা থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব দেয়া হবে। যাতে করোনা যুদ্ধের গতিতে ছেদ না পড়ে এবং সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সত্যতা নিশ্চিত করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বুধবার যুগান্তরকে বলেছেন, ‘করোনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়ছে।

আক্রান্ত কর্মকর্তার জায়গা দ্রুত পূরণ করতে বিকল্প কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনের ২০০ জন কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

এরা বিসিএসের বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তা। সম্প্রতি হবিগঞ্জের ডিসি ও তিনজন এডিসি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে ওই তালিকা থেকে কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

জনপ্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারের মাঠ পর্যায়ের প্রায় তিন ডজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এর মধ্যে প্রায় ১১ জনই নারী। এছাড়া ৭০-৮০ জনের মতো কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলায়।

সেখানকার ডিসি কামরুল হাসান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে ইসরাতসহ ৬ জন কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বানিয়াচং উপজেলার এসি ল্যান্ড মতিউর রহমান, জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমিন পাপ্পা ও সাঈদ মোহাম্মাদ ইব্রাহিম।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন জামালপুরের এসি ল্যান্ড মাহমুদা বেগম। এছাড়া নারায়ণঞ্জের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া তাবাসসুম, ফারজানা আক্তার, আবদুল মতিন খানসহ ৪ কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন।

ডিসি জসিম উদ্দিনও কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। গাজীপুরের টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মোর্শেদ খান পাভেল, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসা, সৌদি আরবে লেবার কাউন্সিলর হিসেবে কর্মরত আমিনুল ইসলামও আক্রান্ত হয়েছেন। ভৈরব উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসা কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

তবে তার নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে ৬ এপ্রিল ঢাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুদকের পরিচালক জালাল সাইফুর। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবও আক্রান্ত হয়েছেন।

নরসিংদী জেলা প্রশাসনের চার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত জামিল সৈকত, মেহেদী হাসান কাউছার, ফয়জুর রহমান ও এবিএম সারোয়ার রাব্বি প্রমুখ করোনায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনা যুদ্ধে মাঠপ্রশাসনের ডিসি, ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এ পর্যন্ত প্রশাসন ক্যাডারের ২৭ জন কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। এর বেশির ভাগই মাঠ প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা, বাজার মনিটরিংসহ অনেক কাজই করতে হয় তাদের। এমনকি করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির দাফন জানাজাও তাদের পড়াতে হচ্ছে। ফলে মাঠ প্রশাসনে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’

হেলালুদ্দীন বলেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা অ্যাসোসিয়েশন থেকে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছিলাম। যেন বিকল্প কর্মকর্তা প্রস্তুত রাখা হয়। তারা এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছে বলে শুনেছি।’

সম্প্রতি অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হলে গ্রেডভেদে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পাবেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে পাবেন পাঁচগুণ।

  • সর্বশেষ
  • আলোচিত
  • নির্বাচিত
আরও ...
অনুষ্ঠানাদি
  • কেন্দ্রীয়
  • মাঠ প্রশাসন
প্রশাসন বার্তা ম্যাপ
অনুসন্ধান
প্রশাসন বার্তা আর্কাইভ
অনুসন্ধান করুন