.

মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০ | ০২-৮৩১৭২০৯ |

প্রণোদনার ১০ লাখ দুস্থদের দেবেন করোনা আক্রান্ত কর্মকর্তা

প্রণোদনার ১০ লাখ দুস্থদের দেবেন করোনা আক্রান্ত কর্মকর্তা
সবুজ হাওলাদার

দেশে করোনায় ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। কেউ কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। আর কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তারা পদমর্যাদা অনুযায়ী পাচ্ছেন আর্থিক প্রণোদনা। এই প্রণোদনার অর্থ নিজে না নিয়ে করোনাদিনে সবকিছু বন্ধ থাকায় যেসব মানুষ খাবারের সংকটে ভুগছেন তাদের সহায়তায় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একজন কর্মকর্তা।

৩১তম বিসিএসের পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন সরকারের পক্ষ থেকে যে দশ লাখ টাকার নগদ প্রণোদনা পাবেন তা পুরোটা তিনি সহায়তায় দিয়ে দেবেন। নরসিংদীতে কর্মরত এই কর্মকর্তার নাম সবুজ হাওলাদার। তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে আক্রান্ত কর্মকর্তার একটি টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। আশা করছেন বাকি টেস্টের ফলাফলও নেগেটিভ আসবে।

৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাদীও বিষয়টি ঢাকা টাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। ইতিমধ্যে এই ব্যাচের প্রায় দুই হাজার সদস্যের নববর্ষের ভাতার অর্ধেক টাকা দিয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দিতে চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন প্রথমে তাদের বিমাসুবিধার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তী সময়ে সরাসরি নগদ অর্থ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের গ্রেড এবং আক্রান্ত ও মৃত্যু অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার পরিমাণ হবে পাঁচ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর পুরো বিষয় দেখভাল করবে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা ছাড়াও প্রশাসন ক্যাডার, পুলিশ, চিকিৎসক ও নার্সসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একজন চিকিৎসক ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সুবিধা দেওয়াসংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর তা নীতিমালা আকারে জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, যারা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন, তারাই এ সুবিধার আওতাভুক্ত থাকবেন। এদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তরাই কেবল সুবিধা পাবেন।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে পাবেন পাঁচ লাখ টাকা, ১০ম থেকে ১৪তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে পাবেন সাড়ে সাত লাখ আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের আক্রান্ত কর্মচারীরা পাবেন ১০ লাখ টাকা। একইভাবে ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কেউ মারা গেলে ২৫ লাখ টাকা, ১০ম থেকে ১৪তম গ্রেডের কেউ মারা গেলে সাড়ে ৩৭ লাখ ও প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কেউ মারা গেলে পাবেন ৫০ লাখ টাকা।

করোনায় আক্রান্ত এই কর্মকর্তা নবম গ্রেডের হওয়ায় তিনি নিয়ম অনুযায়ী দশ লাখ টাকা পাবেন। তার পুরো টাকাই অসহায়দের জন্য দিয়ে দেবেন।

৩১ ব্যাচের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাদী ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানিয়ে লিখেন, আমাদের ৩১ ব্যাচের এক কর্মকর্তা কোভিড ১৯ পজিটিভ ছিলেন। সুখবর হলো কয়েক দিনের ব্যবধানেই তার দ্বিতীয় রিপোর্টটি নেগেটিভ হয়েছে। আশা করি তার তৃতীয় রিপোর্টটিও নেগেটিভ হবে। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তিনি প্রণোদনা হিসেবে ১০ লাখ টাকা অনুদান পাবেন। কিন্ত তিনি জানিয়েছেন তার প্রণোদনার পুরোটা ৩১ ব্যাচের করোনা ফান্ডসহ বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে করোনা মোকাবেলায় দিয়ে দেবেন।

ওই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি নিয়ে আব্দুল্লাহ হাদী বলেন, ‘আক্রান্ত সহকর্মী বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকালে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারি না। একটা মানুষ অকাতরে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের জন্যই তো। সেখানে আমরা ধন সম্পদ দিয়ে কী করব, তার অনুপ্রেরণা আমার বড় সম্পদ। যা টাকার বিনিময়ে বিনিময়যোগ্য নয়।

  • সর্বশেষ
  • আলোচিত
  • নির্বাচিত
আরও ...
অনুষ্ঠানাদি
  • কেন্দ্রীয়
  • মাঠ প্রশাসন
প্রশাসন বার্তা ম্যাপ
অনুসন্ধান
প্রশাসন বার্তা আর্কাইভ
অনুসন্ধান করুন